ভিন্নধর্মী, মজাদার, কৌতুহলদ্দীপক রাজনৈতিক পরিভাষা সমূহ

611

সাংবিধানিক পরিভাষা-আমরা স্বীকার করি আর নাই করি আমরা যতটা না সামাজিক জীব তারচেয়েও বেশি রাজনৈতিক জীব । সমাজের এমন কোন স্তর আমি খুজেঁ পাইনি যেখানে রাজনীতি নাই । জীবনে চলার পথে প্রতিনিয়ত আমরা নতুন নতুন শব্দের সাথে পরিচিত হচ্ছি , ঘটনার পরিক্রমায় আরো কিছু নতুন শব্দ যোগ হচ্ছে অভিধানে । আমি চেষ্টা করেছি ইতিহাস ও রাজনীতির আলোকে কিছু ভিন্নধর্মী মজাদার, কৌতুহলদ্দীপক, শব্দ আপনাদের সামনে তুলে ধরতে ।

Zero Hour শূন্য  সময়: 
এ ধারণার উৎপত্তি ভারতীয় সংসদে । একটি বিশেষ সময়কে নির্দেশ করা হয় যেখানে সদস্যরা জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেন । ভারতীয় সংসদে , একসময় প্রশ্নউত্তর পর্ব শেষ হওয়ার পরও কিছু সদস্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলতে উঠে দাড়াতেন । স্পিকারের অনুমতি কখনও পেতেন কখনও পেতেন না । এই অবস্থাটিকে প্রাতিষ্ঠানিকতার মধ্য নিয়ে আসার চিন্তা করা হয় । এথকে জিরো আওয়ার প্রবর্তিত হয় । প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হওয়ার পর দুপুরের খাবারের বিরতির আগে,সাধারণত এক ঘন্টা সময় দেয়া হয় । এ সময় সদস্যরা তাদের নিজ নিজ এলাকার স্বার্থ –সংশ্লিষ্ট নয়,কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এমন দেশী ও আন্তঃজাতিক বিষয়ে কথা বলেন । শূন্য সময়ে কথা বলতে হলে এই দিন সকাল সোয়া দশটার আগে লিখিত নোঠিশ দিতে হয় । সকল নোটিশ পাওয়ার পর একটি তালিকা তৈরি করে স্পিকার বা সভাপতিকে দেখানো হয় । স্পিকার যে সব নোটিশ গ্রহনযোগ্য মনে করেন সেগুলোর আরেকটি তালিকা তৈরি করা হয় । সাধারণত ১৫ জন সদস্য একদিনে কথা বলতে পারেন । শুন্য সময় ভারতীয় সংসদে একটি কার্য়কর উপায় হিসেবে জনপ্রিতা পেয়েছে ।
বাংলাদেশে ২০০৫ সালে শূন্য সময় ধারণা প্রবর্তনের চেষ্টা করা হয় । তখন বিরোধী দলীয় সদস্যরা এ বিষয়ে আগ্রহ দেখালেও সরাকারী দলের পক্ষ থেকে জোরালো উদ্যোগ নেয়া হয়নি ।
জিরো আওয়ারের সমালোচকের সংখ্যাও কম নয় । কারো কাছে জিরো আওয়ার হলো “ম্যাড আওয়ার {mad hour}” waste of public money , A great beginning of evil day , এসব আলোচনা সত্বেও জিরো আওয়ারই সরকারী দলকে জবাবদিহিতায় রাখতে কার্যকর উপায়গুলোর একটি ।

Merciless parliament: নির্দয় সংসদ । ১৩৮৮ সালে ইংল্যান্ডে আহব্বান করা একটি সংসদকে নির্দয় সংসদ বলে । এটি ইতহাসে wonderful parliament নামে পরিচিত ।

Loyal opposition: অনুগত বিরোধী দল ।  কোন বিরোধী দল যখন জাতীয় স্বার্থে ক্ষমতার বাইরে থেকেও সরকারী দলের সঙ্গে সহযোগঅতা মূলক আচরস করে তখন এক অনুগত বিরোধী দল বলা হয় ।  এ ধরনের বিরোধী দল জনসমর্থনহীন ও গণবিছিন্ন চরিত্রের অধিকারী হয় ।

Indemnity ordinance: দায়মুক্তি অধ্যাদেশ । রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ডাইস বলেন “যদিও ইনডেমনিটি অর্থ অবৈধতাকে বৈধতা দান তবুও এটি একটি আইন ” বাংলাদেশে এর উদাহরণ হলো ১৯৭৫ সালের ২৬ শে  অক্টোবর ।

Kitchen cabinet: রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানের অনানুষ্ঠানিক উপদেষ্টা মন্ডলী । কিচেন শব্দটি তাচিছল্য অর্থে ব্যবহৃত হয় ।

Honeymoon period: কোন নির্বাহী প্রধানের ক্ষমতা গ্রহনের প্রথম কিছু দিন । সরকারের প্রধান নির্বাহী কোন পদে নির্বাচিত হবার প্রথম কিছু দিন আইন পরিষদ , সংবাদপত্র , বিভিন্ন স্বার্থগোষঠী জনগণ সবার সঙ্গে তার একটি সুসম্পর্ক ও হৃদ্যতা থাকে । এ সময়কে মধুচন্দ্রিমার সময় বা হানিমুন পিড়িয়ড বলে । পরিস্থিতি ভেদে হানিমুন পিড়িয়ডের স্থায়িত্ব কয়েক ঘন্টা থেকে কয়েক মাস হতে পারে ।

Freedom of speech: সংসদে কথা বলার স্বাধীনতা  । সংবিধানের ৭৮(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে । “সংসদে বা সংসদের কোন কমিটিতে কিছু বলা বা ভোট দানের জন্য কোন সংসদ সসেস্যের বিরুদ্ধে কোন আদালত কার্যধারা গ্রহন করা যাব না ”…..

Freedom of arrest: গ্রেফতার না হওয়ার স্বাধীনতা । বাংলাদেশ সংসদ কার্যপ্রণালী বিধির ১৭৪ বিধিতে বলা হয়েছে , স্পিকারের অনুমতি ছাড়া সংসদ –সীমা কোন সংসদ সদস্যকে গেঅতার করা যাবে না ।

Fourth state: রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ । আইন বিচার ও নির্বাাহী – রাষ্ট্রের এই তিন বিভাগের পর চতুর্থ ক্ষমতাধর বিভাগ হিসেবে সংবাদপত্রকে চিহ্ণিত করা হয় ।

Drunk parliament: মাতাল পার্লামেন্ট । সতের শতকের একটি ষ্কটিশ পার্লামেন্টকে মাতাল পার্লামেন্ট বলা হয় । ১৬৬২ সালের ১লা অক্টোবর এ পার্লামেন্টের অধিবেশন বসে মাত্র ৮দিন এ পার্লামেন্ট টিকে ছিলো । প্রথম দিনের বৈঠকে উপস্থিত সদস্যের মধ্যে একজন শুধু ছিলেন স্বাভাবিক । বাকি সবাই ছিলেন মাতাল । এজন্য এ পার্লামেন্ট কে মাতাল পার্লামেন্ট বলা হয় ।

Dark horse candidate: যখন দেখা যায় একটি দল থেকৈ মনোয়ন পাবার জন্য দুজন প্রার্থীর মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বান্ধতা হয় । তখন এ দল দুজনকে বাদ দিয়ে এন্য একজন কে তুতীয় প্রার্থীকে মনোয়ন দেয় ।  এ ব্যাক্তি অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত ও কম আলোচিত । এজন্য এ প্রার্থীকে ডার্ক হর্স প্রার্থী বলা হয় ।

Cash for query scam: প্রশ্নের বিনিময়ে নগদ কেলেঙ্কারি । ২০০৫ সালে ভারতীয় পার্লামেন্টে ১১ জন সদস্যের একটি কেলেঙ্কারি ।পার্লামেন্টে প্রশ্ন উথ্থাপন করবেন এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা নগদ অর্থ গ্রহন করেন ।

Caucus: রুদ্ধদ্বার বৈঠক – রাজনৈতিক নেতাদের গোপন বৈঠক । দলের নীতি নির্ধারনের জন্য গোপন বৈঠক । ককাস শব্দটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বহুল ব্যবহৃত শব্দ । বাংলাদেশের রাজনীতিতে এ ধরনের শব্দগুলো “নীতি নর্ধিারক দের সভা ” “প্রভাবশালী নেতাদের সভা ” “দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সভা ” ইত্যাদি নামে চিহ্নিত করা হয় ।

Barnburners: পোড়ামাটি নীতি গ্রহনকারী । প্রতিদ্বন্ধি এমন রাজনৈতিক দল ও পক্ষগুলোর নেতাদের বুঝায় । যারা তাদের প্রতিদ্বন্ধিতার রাজৗনতিক পরিণতি পরিমাপ করতে পারে না । এরা এমন রাজনৈতিক কৌশল গ্রহন করে যার পরিণাম শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য ক্ষতিকর হয় । অনেক সময় এদের কৌশল এত আত্মঘাতী হয় , তবু তারা গৃহীত নীতিমালা ও কমর্ সূচী বাস্তবায়ন কার্যকর করতে অনড় থাকেন ।

Block voting: কোন বিশেষ শ্রেনী বা সম্প্রদায় যখন একটি দল বা একটি এলাকা বিশেষ কোন একজন প্রার্থীকে নির্বিচারে ভোট দেয় তখন এক ব্লক ভোটিং বলে ।

Addled parliament: বিভ্রান্ত পার্লামেন্ট- ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম জেমস কর্তৃক আহুত দ্বিতীয় পার্লামেন্ট (১৫৬৬-১৬২৫ ) । ৫ই এপ্রিল থেকে ৭ই জুন পর্যন্ত পার্লামেন্টে কোন আইন পাস না করায় এ পার্লামেন্ট কে বিভ্রান্ত পার্লামেন্ট বলা হয়

 Agrrement of differ: ভিন্নমত পোষণে একমত ।  কোন একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে একমত না হয়েও একসাথে কাজ করার মনোভাব পোষনে করা ।

এ শব্দগুলো ছাড়াও আরো বেশ কিছু ভিন্নধর্মী, মজাদার এবং কৌতুহলদ্দীপক  রাজনৈতিক পরিভাষা রয়েছে যা অবশ্যই আপনার জানতে ইচ্ছে করবে, উদাহরণ স্বরুপ বলা যেতে পারে – Withdrawal of motion, Who goes home, vote trading, Voter turnout, Vote rigging, Spy strangers, Swashbuckler, Vote of censure, Vote of no confidence ইত্যাদি শব্দগুলো নিয়ে পরবর্তী নিবন্ধটি প্রকাশিত হবে ।

এই নিবন্ধ সংক্রান্ত কোন অভিযোগ ও পরামর্শ থাকলে মন্তব্য করুন । 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY