গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রসঙ্গে কার কি অভিমত?

367

[গণমাধ্যমের স্বাধীনতার আদ্যোপান্ত শীর্ষক প্রবন্ধে আপনি যা জানতে পারবেন – এখানে শুধু চুম্বক অংশ আলোকপাত করা হয়েছে । ]

গণমাধ্যম কি?

গণমাধ্যমকে প্রধান ৮টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। সেগুলো হলো – বই, সংবাদপত্র, সাময়িকী, ধারণ যন্ত্র, রেডিও, সিনেমা, টেলিভিশন এবং ইন্টারনেট ।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কি? গণমাধ্যমের স্বাধীনতার তাত্বিক কাঠামো

প্রেসিডেন্ট জেফারসন বলেছিলেন,

যদি আমাকে বলা হয় কোনটা বেছে নেব সংবাদক্ষেত্র (Press) ছাড়া সরকার, না সরকার ছাড়া সংবাদক্ষেত্র? আমি বেছে নেব শেষেরটিকে

William Blackstone

 “Every freeman has an undoubted right to lay what sentiment he pleases before the public; to forbid this, is to destroy the freedom of the press.”

জাতীয় জীবনে স্বাধীন সংবাদক্ষেত্রের অপরিসীম গুরুত্ব ও ভূমিকার কথা ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওয়াহেরলাল নেহেরু উপলব্ধি করেছেন এভাবে:

“I would rather have a completely free press with all the dangers involved in the wrong use of the freedom than a suppressed or a regulated press.”

 প্রখ্যাত সাংবাদিক মরহুম ওবায়েদ-উল-হক বলেছেন

‘গণতান্ত্রিক অধিকারের সনদপত্র’। ওবায়েদ-উল-হক এর মতে, ‘‘গণতন্ত্র স্বাধীনতা সংবাদপত্র (সংবাদক্ষেত্র) এই তিনটি শব্দ এক নি:শ্বাসে উচ্চারণ করতে হয়। ভিন্ন ভিন্ন হলেও এদের মর্মার্থ অভিন্ন একই সত্যের তিন রূপ বা একটি ত্রিমাত্রিক সত্য। ব্যক্তি স্বাধীনতা তথা চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রকৃষ্ট প্রকাশ মাধ্যম হচ্ছে সংবাদপত্র (Press)। কেবল গণতান্ত্রিক পরিবেশেই ঐ দুয়ের উদ্ভব ও স্থিতি। গণতন্ত্র নেই তো ব্যক্তি স্বাধীনতা নেই, সংবাদপত্রও নেই। বস্তুত সংবাদপত্র গণতান্ত্রিক অধিকারের সনদপত্র।’’

 

 

প্রেসিডেন্ট ওবামা যেমনটি বলেছেন,

‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস এমন একটি দিবস যখন আমরা ওই সব সাংবাদিককে সম্মান প্রদর্শন করি, আমরা যখন এই মুহূর্তে কথা বলছি তারা হয়তো কারাভোগ করছেন, লাঞ্ছিত হচ্ছেন, বিপদে রয়েছেন এবং অবশ্যই তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করি যারা এই কারণে প্রাণ হারিয়েছেন।’ বিশ্বব্যাপী আমরা সাংবাদিকদের সম্মান জানাই, যারা অনেক বিপদের মোকাবেলা করেও সত্য উন্মোচনের এবং তা ছড়িয়ে দেয়ার অঙ্গীকারের জন্য গণতান্ত্রিক আদর্শকে রক্ষা করেন।

 

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ,বাংলা একাডেমিতে একটি দৈনিক পত্রিকার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে  বাক স্বাধীনতা ও গণমাধ্যম প্রসঙ্গে – সুত্র

বাক-স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা না থাকলে গণতন্ত্র অর্থহীন বলে মন্তব্য করেছেন একটি গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় গণমাধ্যমের গুরুত্ব অপরিসীম। গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার প্রকৃত সৌন্দর্য হলো বাক-স্বাধীনতা, ব্যক্তি-স্বাধীনতা। আর সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ব্যতীত গণতন্ত্র অর্থহীন।

সাংবাদিক হিসেবে কাজের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী বলে চিহ্নিত শীর্ষ পাঁচটি দেশ

 সিরিয়া, ইরাক, ফ্রান্স, ইয়েমেন ও দক্ষিণ সুদান।


নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অর্মত্য সেন তাঁর ‘হোয়াট্স দ্য পয়েন্ট অব প্রেস ফ্রিডম’ নিবন্ধে গণমাধ্যমের অবদান আলোচনায় বলেছেন,

“স্বাধীন গণমাধ্যম যেমন অবহেলিত ও বঞ্চিতদের বক্তব্য গণমাধ্যমে তুলে ধরে তেমনি সরকারকে শোধরানোর সুযোগ দেয়, জনগণের রোষানল থেকে রক্ষা করে।”

গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে আমেরিকার ফেডারেল কোর্টের বিচারপতি রবার্ট এইচ জ্যাকসন অভিমত দিয়েছেন,

‘নাগরিকদের ভুল করা থেকে রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব নয়; বরং নাগরিকদের দায়িত্ব হলো সরকারকে ভুল করা থেকে রক্ষা করা।’

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে [৭(২) ধারা]  ঘোষণা করা হয়েছে:

‘জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোনো আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসামঞ্জস্য হয়, তাহা হইলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হইবে।’

 

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY