যে ব্যঙ্গ বিদ্রুপের মাশুল দিতে হয়েছিলো অখন্ড ভারতবর্ষকে

509

মুহাম্মদ আলি জিন্নাহ(Muhammad Ali Jinnah) ২৫ ডিসেম্বর ১৮৭৬ খ্রীষ্টাব্দে জন্মগ্রহন করেন । মুহাম্মদ আলি জিন্নাহকে পাকিস্তানে কায়েদে আজম (মহান নেতা) ও বাবায়ে কওম (জাতির পিতা) হিসেবে সম্মান করা হয়। তিনি ২০ বছর বয়সে বোম্বেতে তাঁর আইনপেশা শুরু করেন এবং বোম্বেতে তখন তিনি ছিলেন শহরের একমাত্র মুসলিম ব্যারিস্টার।

কংগ্রেসের বিশতম বার্ষিক অধিবেশনে (১৯০৪) অংশ নেয়ার মাধ্যমে জিন্নাহর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ।  ১৯২০ সালে নাগপুর কংগ্রেসে জিন্নাহর সাথে গান্ধীর মতান্তর হয় । তিনি অহিংস অসহযোগ নীতি সমর্থন না করে বলেন আইনসঙ্গত উপায়ে স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম । সাথে সাথে কংগ্রেসের সভ্যরা প্রতিবাদ ও বিদ্রুপে তাকে উপেক্ষা করেন । সভায় বিশিষ্ট কংগ্রেসী বলেন

মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত

। গান্ধীজি এ নিষ্টুর ব্যঙ্গ বিদ্রুপ উপভোগ করলেন আর কোন প্রতিবাদ করলেন না । মি জিন্নাহ ক্ষোভে দুঃখে  কংগ্রেস ছাড়লেন । তিনি বুঝলেন যে গান্ধীজী থাকতে তিনি কোন দিনই হিন্দু কংগ্রেসে প্রাধান্য পাবেন না ।

পরবর্তীতে তিনি মুসলিম ভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা করেন । যার মাধ্যমে তিনি ব্রিটিশদের কাছে মুসলিমদের অধিকার ও দাবি দাওয়া তুলে ধরেন । যা পরবর্তীতে আলাদা মুসলিম রাষ্ট্র সৃষ্টিতে পটভূমি সৃষ্টি করেন এবং ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান নামে রাষ্ট্রের জন্ম হয় । একথা দিবালোকের মতই সত্য যে, জিন্নাহকে যদি উপযুক্ত মর্যাদা দেওয়া যেত এবং মুসলমান হিসেবে ঘৃণা ও অপমানিত না করা হতো তাহলে তিনি কংগ্রেসের ভ্রান্ত পথের পথিক হিসেবে থাকেতেন ।

জিন্নাহকে প্রত্যেক বিষয়ে কোনঠাসা করে রাখার প্রবণতা গান্ধীর যে কেন ছিল এর অন্যতম কারণ হতে পারে । তারা উভয়ে একই বংশের লোক – একই রক্তে জন্ম । প্রমাণ হিসাবে বলা যায় যে মি, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও শ্রী মোহনদাস করমঁচাদ গান্ধীর পিতামহ ছিলেন কাথিায়াড়ের এক সম্প্রদায়ভুক্ত গুজরাটি হিন্দু । কোন বিশেষ কারণে মি জিন্নাহর পিতা ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে করাচীতে বসবাস শুরু করেন । [ দ্রঃ অবিষ্মরণীয় ২য় খন্ড, পৃ: ৫ , শ্রী গঙ্গা নারায়ন]

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY